চাঁদপুর, রোববার ২২ নভেম্বর ২০২০, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৬ রবিউস সানি ১৪৪২
ফনেটিক ইউনিজয়
সার্চ
¦

ব্রেকিং নিউজ

সাক্ষাৎকার : এএসএম শফিকুর রহমান
বিগত চারদশকে অভাবনীয় সামাজিক পরিবর্তন হয়েছে

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর, ২০২০

এএসএম শফিকুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তিনি হিসাবরক্ষণ পরিদপ্তরে বাংলা প্রচলন কমিটির সদস্য সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, দক্ষিণ চাঁদপুর জনকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাখরপুর টাউন টুইনিং ট্রেডিং কমিউনিটির সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা ক্যাবের প্রতিষ্ঠা আহ্বায়ক, ‘অ্যাকটিভ ফ্রেন্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা, হাইমচর কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম সাংগঠনিক কমিটির সদস্য ও পরে ম্যানজিং কমিটির সদস্য, দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দুবারের সভাপতি, লিভারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক, ‘অ্যাপেক্স ক্লাব অব চাঁদপুর’-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ‘বিষ্ণুদী কল্যাণ সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি, উত্তর আলগী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি, রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত জনশক্তি পরিচালনা দপ্তরের ‘আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প’-এর অন্যতম উপদেষ্টা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুর-এর সিবিএর সভাপরি দায়িত্ব ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন।
সম্প্রতি তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : কেমন আছেন?
এএসএম শফিকুর রহমান : আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার জন্ম এবং বেড়ে ওঠার কথা জানতে চাই।
এএসএম শফিকুর রহমান : আমার জন্ম ১৯৪৯ সালের ১ মার্চ, হাইমচরে। বেড়ে উঠেছি এ উপজেলার হাইমচর থানার উত্তর আলগী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে। আমার বাবা আলহাজ আবদুর রশিদ পাটওয়ারী ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি ব্রিটিশ আমলে ফুড কমিটির সেক্রেটারি এবং পাকিস্তান আমলে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন। শৈশবে আমার মা মারা যান। বাবা তখন চাকুরি করতেন চররামপুর। সেখানে আমি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করি। হাইস্কুলের পড়াশোনা করি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে পুরাণ ঢাকার শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও সলিমুল্ল্যাহ কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : পেশাগত জীবন শুরু হলো কীভাবে?
এএসএম শফিকুর রহমান : বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকার হিসাবরক্ষণ পরিদপ্তর (এলডিসি) হিসেবে ১৯৬৭ সালে আমার পেশাগত জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে চাঁদপুরে কর্মরত ছিলাম। আমি ২০০৭ সালে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ। চাঁদপুরে আসি ১৯৭৭ সালে এবং এখনো এখানেই আছি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান :  ১৯৭৭-৮০ সালের চাঁদপুর এবং ২০২০ সালের চাঁদপুরের মধ্যে কী পার্থক্যটা দেখতে পান?
এএসএম শফিকুর রহমান : অনেক পার্থক্য। তখনকার দিনে মানুষজন এতটা রাজনৈতিক-সচেতন ছিলো না। এখন মানুষ অনেক রাজনৈতিক-সচেতন। তখন মারমুখী রাজনীতি ছিলো না। এখন রাজনীতির ধরণ পাল্টেছে। বিগত চারদশকে অভাবনীয় সামাজিক পরিবর্তন হয়েছে। পড়াশোনা ও প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। যেমন, আমাদের সময় টেলিভিশন ও মোবাইল ছিলো না। তৎকালে রেডিও ছিলো বিশাল বিপ্লব! ইলিশের কথা যদি বলি, তখন প্রচুর ইলিশ পেতাম। দামও ছিলো সহনীয় পর্যায়ে। পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে আমি এক টাকা দিয়ে চারটা ইলিশ মাছ কিনেছি। ১৯৭৭-৮০ সালে যে ইলিশ ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যেতো, এখন সেটা ১০০০-১২০০ টাকা হয়েছে। তখন তো অনেক ইলিশ ছিলো। কারণ মানুষ তখন জাটকা মাছ ধরতো না। এমনকি জাটকা কি তা-ও মানুষজন জানতো না। এখন জেলেদের মাছ ধরার কৌশলও পরিবর্তন হয়েছে। তখন তো শুধু ইলিশের জাল ছিলো। আর এখন তো ছোট ছোট মাছও ধরে ফেলা হয়। ১৯৭৭ সালের দিকে লঞ্চ ছিলো এক তলাবিশিষ্ট। চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের লঞ্চভাড়া ছিলো এক টাকা চার আনা।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার সাংগঠনিক জীবন সম্পর্কে বলুন।
এএসএম শফিকুর রহমান : আমার সাংগঠনিক জীবনের সূচনা হয় ঢাকায়। হিসাবরক্ষণ পরিদপ্তরে আমি বাংলা প্রচলন কমিটির সদস্য সচিব ছিলাম। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন শ্রমিক ইউনিয়ন (টিউসি) যোগ দিই। সেখান থেকে ১৯৭৭ সালে চাঁদপুর চলে আসি। ঢাকায় থাকাবস্থায় আমি প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দক্ষিণ চাঁদপুর জনকল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আমি এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলাম। এরপর বাখরপুর টাউন টুইনিং ট্রেডিং কমিউনিটি নামে একটি সংগঠন করি। এ কমিটির কাজ ছিলো ফ্রান্সের প্যারিস নগরীর দুটি মহল্লার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করা। সেটারও সভাপতি ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। আমি সেক্রেটারি ছিলাম। এ সংগঠনের মাধ্যমে নানারকম সমাজসেবামূলক কাজ করা হতো। এটা ১৯৭৪-৭৫ সালের কথা। আমি চাঁদপুর জেলা ক্যাবের সাথেও যুক্ত আছি। আমি এ কমিটির চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়াও ‘অ্যাকটিভ ফ্রেন্ডস’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। হাইমচর কলেজ যখন প্রতিষ্ঠিত হয় আমি তখন প্রথম সাংগঠনিক কমিটির সদস্য ছিলাম। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। আবার কলেজ যখন প্রতিষ্ঠত হয়, তখন আবার ম্যানজিং কমিটির সদস্য মনোনীত হই। এছাড়াও আমি হাইমচরের দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দুবারের সভাপতি ছিলাম। সময়টা হলো ১৯৯২ ও ১৯৯৫। ২০১১ সালে লিভারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। এছাড়াও আমি কোর বাংলাদেশ-এর পক্ষে চাঁদপুরে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমি আন্তর্জাতিক মানের ‘অ্যাপেক্স ক্লাব অব চাঁদপুর’-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এ সংগঠনটির ন্যাশনাল এডিটর হিসেবে দুবার দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সম্পাদনায় ‘দি অ্যাপেক্সিয়ান’ নামে ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। চাঁদপুরের বিষ্ণুদী রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘বিষ্ণুদী কল্যাণ সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। হাইমচরের উত্তর আলগী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে কাজ করছি। ইসলামি ব্যাংক, চাঁদপুর বাস্তবায়িত ‘সার্ভিস সেন্টার’ প্রকল্পের সদস্য ছিলাম। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত জনশক্তি পরিচালনা দপ্তরের ‘আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প’-এর অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছি। হাইমচর থানার অর্পিত সম্পত্তি যাচাই-বাছাই কমিটির সরকারি সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুর-এর সিবিএর সভাপতিসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যে প্রতিষ্ঠিত বিনোদন ক্লাবের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। এছাড়াও হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য ছিলাম। চাঁদপুর পৌরসভার নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প-২-এর ১৫নং ওয়ার্ড সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলাম।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর কথা বলছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বলুন।
এএসএম শফিকুর রহমান : প্রফেসর আব্দুল্লাহর সাথে আমার ৪৮ বছরের সম্পর্ক। তিনি দিনের সময়টা ভাগ করে নিতেন। এর মধ্যে একটি সময় তিনি ব্যয় করতেন নদী-ভাঙতি মানুষদের জন্যে। হতদরিদ্রদের জন্যে ভীষণ চিন্তা করতেন। কোর বাংলাদেশ-এর সাহায্যে তিনি চাঁদপুর-হাইমচরের দশ হাজার মানুষকে ঘর দিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ জন্যে বহু ডিপ টিউবওয়েল বসিয়েছিলেন।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : যতদূর জানি, একসময় আপনি রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন।
এএসএম শফিকুর রহমান : ওইভাবে ঠিক না। আমি ষাটের দশকে ঢাকা থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগের জয়জয়কার দেখেছি। দেখেছি কি নির্মোহভাবে বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের স্বার্থে কথা বলেন। এজন্যে আমি যতো দিন ঢাকা ছিলাম ততোদিনই তাঁর মিছিলে-মিটিংয়ে গেছি। এমন একটি মিছিলও নেই যে মিছিলে আমি যাইনি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে আমি অংশ নিই। হাইমচরে মুসলিম লীগের প্রভাব ছিলো বেশি। আমি, ইঞ্জিনিয়ার মজিদ, তারপরে মরহুম আবদুর রহমান চেয়ারম্যান, আবদুল হালিম আখন এঁরা মিলে আওয়ামী লীগের জন্যে কাজ করেছি। তখন মানুষ আমাদেরকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতো। এক পর্যায়ে সত্তরের নির্বাচনের সময় মিজানুর রহমান চৌধুরীর কাছাকাছি চলে যাই। তাঁর সাথেও বহুদিন কাজ করেছি। বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তী যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন তখনও খুব কাছাকাছি ছিলাম। স্বাধীনতা-সংগ্রামে আমি আওয়ামী লীগের সমর্থনে কাজ করেছি। মরহুম মনসুর আহমেদ বেপারীর নেতৃত্বে ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের একজন সংগঠক ছিলাম। কিন্তু আমি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের কোনো সার্টিফিকেট নিইনি। এটা বোধহয় ভুলই করেছি। সংগঠক হিসেবে আমার সম্পৃক্ততার কথা হাইমচরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার হাফিজ আহমদ সাহেবও জানেন।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি দেখেছেন?
এএসএম শফিকুর রহমান : হ্যাঁ, দেখেছি। ঢাকায় আমি বঙ্গবন্ধুকে একাধিকবার কাছ থেকে দেখেছি। উত্তাল ৭ মার্চে মঞ্চের খুব কাছাকাছি ছিলাম। তখন কাছ থেকে শুনেছি বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণ।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর সাথে আপনার স্মৃতির কথা বলুন।
এএসএম শফিকুর রহমান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী খুবই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর বাসা সবসময় লোকে লোকারণ্য থাকতো। নূরে আলম সিদ্দিকীসহ টাঙ্গাইলের মান্নান সাহেব, ফরিদপুরের ওবায়দুর রহমানসহ একসঙ্গে বসতাম মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসায়। খাওয়া-দাওয়া করতাম। আমি মিজানুর রহমান চৌধুরীর ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে কাজ করেছি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। আপনি একটু তুলনামূলক আলোচনা করেন যে, কোন্ দেশের কী ভালো লেগেছে আপনার এবং তার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যটা কী?
এএসএম শফিকুর রহমান : আমি ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক, মনাকো ভ্রমণ করেছি। আমার দেখা সুন্দর দেশ হলো সুইজারল্যান্ড আর মনাকো। বাংলাদেশের পার্থক্য হলো ওখানের সমাজব্যবস্থা অন্য রকম। ট্রেনে উঠলাম বা মেট্রোরেল কিংবা বাসে উঠেছি। দেখলাম, সিট খালি না থাকলে ওখানকার লোকেরা প্রবীণ কিংবা নারী দেখলে জায়গা ছেড়ে দেয়। বলা লাগে না। এ জিনিসটা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনি লেখালেখি শুরু করেছেন কেন? এবং কবে থেকে?
এএসএম শফিকুর রহমান : আনুমানিক ২০০৬ সাল থেকে আমি লেখালেখি শুরু করি। ২০০৭ সালে আমি চাকুরি থেকে অবসর নিয়েছিলাম। তখন কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে। রয়েছে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি। এ সম্পর্কে বলুন।
এএসএম শফিকুর রহমান : বই পড়ার নেশাটা আমার বাবার কাছ থেকে হয়েছে। বাবাকে দেখতাম যখনই সময় পেতেন তখনই বই পড়তেন, পত্রিকায় পড়তেন।  আমার সংগ্রহে এক হাজারের উপরে বই আছে। এর বেশির ভাগই হলো রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক আর ভ্রমণকাহিনীর। আমি আগে চাঁদপুরের বইমেলায় অংশ নিতাম। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো সাহিত্য একডেমি চাঁদপুরের আয়োজনে একুশে বইমেলায় অংশ নিই এবং প্রথম স্থান অধিকার করি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় একটি ঘটনার কথা বলুন।
এএসএম শফিকুর রহমান : বিদেশীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। আমি ফরাসি, ইতালি এবং স্পেনÑ এ তিন দেশের সমাজকর্মীদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কাজ করার জন্যে আমার বাড়িতে তাঁরা মাসের পর মাস থাকতো। খ্রিস্টানদের সাথে চলি, এজন্যে তখন আমাকে সামাজিকভাবে বয়কট করার উদ্যোগও নিয়েছিলো অনেকে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। এটা আমার ভালো লেগেছে। বিদেশীরা আমাকে তাদের দেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমি যাইনি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : এই বয়সে কীভাবে সময় কাটছে?
এএসএম শফিকুর রহমান : সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করে আমার সময় কাটছে। আল-আমিন এতিমখানা কমপ্লেক্স নামে একটি এতিমখানা রয়েছে। আমি একটানা ৯ বছর এটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। শুধু তাই নয়, আমি এ এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও। শারীরিক কারণে গতমাসে আমি এ দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেছি। তবে সদস্য হিসেবে আছি। এছাড়া আমি পুরাণবাজার তিব্বিয়া ইউনানী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলাম। বর্তমানে চাঁদপুর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি অঞ্চল-৬-এর সভাপতি এবং রাশেদিয়া প্রাইমারি স্কুলের ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ক্যাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে আছি।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই।
এএসএম শফিকুর রহমান : আমার স্ত্রী জাহানারা বেগম অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা। আমরা দুজনে হজ পালন করেছি। আমাদের এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলে ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান কানাডার নাগরিকত্ব পেয়েছে। তার সেখানে বাড়ি-ঘর আছে। সে কানাডার ফেডারেল ব্যাংকের ইউনিট ওএফএসআই-এর সিনিয়র ম্যানেজার টেকনোলজি পদে কর্মরত আছে। বড় মেয়ে ফেরদৌসী রহমান শান্ত দুবাই থাকে। তার স্বামী দুবাই ইলেকট্রিক্যাল ওয়াটার সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ফাইন্যান্স অফিসার। ছোট মেয়ে ফারহানা রহমান তিথির স্বামী হাজীগঞ্জ স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার। মেয়ে ঢাকায় থাকে।
অনুলিখন : আল-আমিন হোসাইন
শেষের পাতা পাতার আরো খবর

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতিঃ ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশকঃ- মোঃ সেলিম খান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ- শহীদ পাটোয়ারী, যুগ্ম সম্পাদকঃ- জাহিদুল ইসলাম রোমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ- কাজী মিজানুর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ- মোহাম্মদ আলী মাঝি কর্তৃক ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন, চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত এবং সিরাজ অফসেট প্রেস, কলেজ গেইট, চাঁদপুর থেকে মুদ্রিত। কার্যালয়ঃ- খান সুপার মার্কেট (২য় তলা), ঘোষপাড়া ব্রীজের পশ্চিমে, মরহুম আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়ক, চাঁদপুর-৩৬০০। মোবাইল- ০১৭১২-২০৫৭৪৭।